নয়ন রায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠানের নাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের বাথরুমের ভাঙা পাইপ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে নোংরা পানি ও ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আশপাশের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। এক সপ্তাহ নয়, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

যশোরের মণিরামপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাথরুমের পাইপ ভেঙে নোংরা পানি ও ময়লা বাইরে পড়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খাবারের দোকানে বসে চা-নাশতা খেতেও অস্বস্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্গন্ধের কারণে দোকানে বসে থাকা, ক্রেতাদের সেবা দেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও দুরূহ হয়ে উঠেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকেই এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগী মাওলানা আহসান কবীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকা দুঃখজনক। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, “আমি প্রতিদিন সকালে এই হোটেলে চা খেতে আসি। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের বাথরুমের পাইপ ভেঙে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ কারণে এখানে বসে চা খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।” তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মাওলানা আহসান কবীর আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অফিসের নাম জনস্বাস্থ্য, অথচ তাদের কার্যক্রমেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।” তাঁর মতে, দ্রুত পাইপটি মেরামত করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জয়দেব কুমার দত্ত বলেন, “গত এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। মিস্ত্রি ডেকে দ্রুত ঠিক করে দেব। কমদামে মিস্ত্রি মিলছে না” কিন্তু ভুক্তভোগীদের দাবি আরো এক-দেড় মাস আগে থেকেই আজ পর্যন্ত তারা বলে যাচ্ছেন কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছেন না। 

ভুক্তভোগীরা আরো জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের লোক দের জানালে তারা প্রতিদিনই ডেট দেয় ঠিক করে দিবে বলে।

তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান কবে হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত ভাঙা পাইপ মেরামত করে নোংরা পানি ও ময়লা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব। তাই দপ্তরের কার্যালয়ের বাথরুমের ভাঙা পাইপের কারণে সৃষ্ট এই দুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে কর্তৃপক্ষ—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।