সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন বা এসিআরের পরিবর্তে বার্ষিক কর্মকৃতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন বা অ্যানুয়াল পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট (এপিএআর) চালু হতে যাচ্ছে।

এ জন্য বার্ষিক কর্মকৃতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুশাসনমালা-২০২২ (এপিএআর) চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারি, আধা-সরকারি, সংযুক্ত দপ্তর, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও বিধিবদ্ধ সংস্থা, কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন কমিশন এবং অসামরিক প্রশাসনে নিয়োজিত প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই অনুশাসনমালা প্রযোজ্য হবে। নতুন এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে কর্মকর্তাদের নিরীক্ষা বা মূল্যায়ন সহজ হবে। এ ছাড়া তাদের কর্মতৎপরতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে মনে করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, অনুশাসনমালাটি অনুমোদনের জন্য গত রবিবার প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে তোলা হয়েছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটিতে অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে তা দূর করে আরও যুগোপযোগী করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে অনুশাসনমালাটি তোলা হবে।

কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এপিএআর অনুশাসনমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। পরে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী এপিএআরের একটি রূপরেখা প্রস্তুত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এটি নীতিগত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খসড়া অনুশাসনমালার ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর, সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে অনেকগুলো কর্মশালা করে মতামত নেয়।

মতামতের জন্য খসড়াটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিআর অধিশাখার অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি যাচাই-বাছাই করে এসিআর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এপিএআরের খসড়াটি চূড়ান্ত করে।

বর্তমানে জনপ্রশাসনের সিপিটি অনুবিভাগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাইলটিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সচিব কমিটির অনুমোদনের পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে পাইলটিং করা হবে এবং সারাদেশে এপিএআর বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এপিএআর ও এসিআর পাশাপাশি চালু রাখতে পারবে। কোনো কর্মকর্তাকে এক অর্থবছরে ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হবে, এর ৬০ নম্বর হবে সম্পাদিত কর্মকৃতির জন্য এবং ৪০ নম্বর ব্যক্তিগত ও পেশাগত বৈশিষ্ট্যের জন্য। স্ব-মূল্যায়িত অংশের তথ্য ব্যতীত এপিএআরের অন্যান্য মূল্যায়িত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যতীত সব ক্ষেত্রে গোপন থাকবে।

এসিআরের মতোই বার্ষিক এপিএআর এবং আংশিক এপিএআর থাকবে। কোনো অর্থবছরে একটি ইউনিটে কমপক্ষে একটানা ৩ মাস দায়িত্ব পালন করলে এপিএআর দাখিল করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার প্রণীত অনলাইন সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে এপিএআর পরিচালিত হবে।

এপিএআরে বলা হয়েছে, মূল্যায়নাধীন কর্মকর্তা তার সম্ভাব্য কাজের তালিকা, প্রতিটি কাজের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ও নম্বরসংবলিত কর্মপরিকল্পনা নির্দিষ্ট ছকে প্রতিবছর ১৫ জুলাই বা যোগদানের ১৫ দিনের মধ্যে প্রণয়ন করে মূল্যায়নকারীর কাছে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন।

প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় কাজের ন্যূনতম সংখ্যা ১২টি এবং মোট নম্বর কমপক্ষে ৬০ হতে হবে। মূল্যায়নাধীন কর্মকর্তার কর্মকৃতির গুরুত্বপূর্ণ কাজ, প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও বিশেষ অর্জন মূল্যায়নকারী ও প্রতিস্বাক্ষরকারীর অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রোফাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হবে।