বিশেষ প্রতিনিধি: আর মাত্র ১৮ দিন পরেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। শীত উপেক্ষা করে ভোটারদের কাছে ভোর হতে রাত পর্যন্ত ছুটে চলেছে প্রার্থীরা। প্রতীকের স্লোগানে মিছিলে প্রকম্পিত প্রতিটি রাজপথ। বাড়ি বাড়ি মা-বোনদের নানান সব সুবিধা আর নির্বাচিত হলে স্ব স্ব সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন,এই সুযোগ,সেই সুবিধা সম্বলিত আশার আলো দেখানো সকল ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের পাল্লা ভারী করতে প্রতিটি এমপি প্রার্থী তাদের দৈনিক কর্মসূচি পর্যন্ত ঘোষনা করতে দেখা গেছে। অপরদিকে নতুন ভোটার সহ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে ভোটাধিকার বঞ্চিত ভোটাররা অপেক্ষায় আছে আগামি মাসের ১২ তারিখের দিকে।
সারাদেশের ন্যায়,বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রচারনার ১ম দিন বিকেলে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.ইকবাল হোসেনের কলস প্রতীক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এড.এনামুল হকের দাড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে যে গণমিছিল হয়েছে তাতে বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের প্রচারনার সমার্থকদের সংখ্যায় মণিরামপুরে নতুন রেকর্ড গড়েছে। যার জন্য যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় এবং নির্বাচনী আচরন বিধি অমান্য করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ আহসান হাবীব লিটনকে ৮০ হাজার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ নিস্তার ফারুককে ১,৫০,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় বলে জানা যায়। এ ছাড়াও একইদিনে বিএনপির মনোনীত জোট শরীকের ধানের শীষের প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদ ১৪নং দূর্বাডাংগা ইউনিয়নে প্রচারনার মাধ্যমে শুরু করেছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট যুদ্ধের প্রচারনা।
নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় এম ইকবাল হোসেন আবেগ-আপ্লুত হয়ে বলেন,আমি নিজেউ বুঝতে পারিনি এত মানুষ আমাকে ভালোবেসে মণিরামপুর বাজারে একত্রিত হবে। এতেই প্রমান হয় আমাকে মণিরামপুর বাসী চাই। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও দলের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক,সেটা চাইনা। আমি ও আমার দলীয় নেতাকর্মীরা কখনো একে অপরকে ছেড়ে যাব না।
সাংবাদিকদের স্বাক্ষাৎকারে কলস প্রতীকের প্রার্থী আরো জানান,জোটগত সমীকরণের কারণে তাঁর প্রতীক পরিবর্তন হলেও এতে জনগণের সমর্থনে কোনো ঘাটতি হয়নি। আপনারা দেখেছেন, জোটের কারণে আমার প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কি জনগণ দূরে সরে গেছে? মানুষ আমার জন্য রাস্তায় এসেছে, কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েছে, কান্নাকাটি করেছে, দোয়া ও প্রার্থনায় রেখেছে। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবারই ছিল আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেনের কলস প্রতীকের পক্ষে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বড় মিছিল বের হয়, এতে বিপুলসংখ্যক নারী ও পুরুষ অংশ নেন, যার ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে এম শহীদ ইকবাল হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ নিস্তার ফারুক জানিয়েছেন, জরিমানা করে আমাদের ঘরে বন্দি করে রাখা যাবে না,তবে আগামী দিনের সব প্রচার কর্মসূচি আইন মেনে এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা হবে।
অপরদিকে বিএনপির জোট বরাদ্দের শরীক দলের পক্ষে মনোনীত প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদের ধানের শীষের পক্ষে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু সমার্থিত এক বৃহৎ নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারনা দল। কর্মীসমর্থকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সম্মান রক্ষার্থে জয় নিশ্চিত করে সংসদীয় আসনে মা. রশীদ আহমেদকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে উপজেলা বিএনপিকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু। তার সাথে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও নিজের আব্বাজান মরহুম মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের অসমাপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে উপজেলাবাসীর কাছে ধানের শীষের ভোট চেয়ে চলেছেন মা. রশীদ আহমেদ।
ত্রিমূখী এ ভোট যুদ্ধে পিছিয়ে নেই দাড়িপাল্লার প্রচারণা। নিয়মিত দলীয় সমার্থক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে হাট-ঘাট-মাঠে ভোটারদের কাছে ছুটে চলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এড গাজী এনামুল হক।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ আহসান হাবীব লিটন জানিয়েছেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এড গাজী এনামুল হকের নিরঙ্কুশ বিজয় হবে বলে আমরা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, ৩,১৯,০২৮ জন ভোটারের এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির স্বতন্ত্র প্রার্থীতার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর শক্ত অবস্থানে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ মণিরামপুরে এবার ত্রিমূখী ভোটযুদ্ধের আশংকা করছেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রবীণ সব নেতারা। এ তিন হেবিওয়েট প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন টিপু,জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের এম এ হালিম নিজস্ব বহরে প্রতীকের ভোট চেয়ে চলেছেন নির্বাচনী এলাকায়।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।