‎এস এম তাজাম্মুল: দীর্ঘ ৩১ বছর পর ২য় বার ও প্রথম সংস্কারের এক বছরের মাথায় আবারও সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পড়ে ভারী যানবাহন সহ সকল ধরনের চলাচলে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ১৯৯৫ইং সালে হরিহর নদের উপর  নির্মিত “মণিরামপুর সেতু” টি! যে ব্রিজটি উপজেলা বাসী সহ সুবিধা ভোগীদের কাছে বাধাঘাটা ব্রিজ নামে পরিচিত।

‎দ্বিতীয় বার এ ভাংগনের তথ্য সূত্রে আছে, চলতি সপ্তাহের সোমবার(২৫শে মে) সকালে মণিরামপুর বাজার হতে কেশবপুর দিকে যাওয়ার পথে পণ্যবাহী একটি ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারালে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার কারনে সেতুটি এখন যে কোন মুহূর্তে ধ্বসে পড়ার আশংকায় রয়েছে। ঝুকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও এ বিষয়ে নেই কোন আলোচনা,দেখেউ দেখেনা কেউ! এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকায় সমস্যা দূরীকরনের স্থায়ী-অস্থায়ী সমাধান বাদেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ যাত্রায় প্রতিদিনিই যাত্রী/পণ্যবাহী শতশত যানবাহন চলছে ঝুকিপূর্ণ এ সেতুটি দিয়ে। তথ্য সংগ্রহে গেলে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থায়ী না হলেও অস্থায়ী একটি সমাধানের মাধ্যমে জরাজীর্ণ এ সেতুটি ঝুকিপূর্ণ এরিয়া লেখা সম্বলিত কয়েকটি বিলবোর্ড স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় উপকারভোগী ও বিভিন্ন যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের বক্তব্য মোতাবেক,বসোমবার আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে যশোর থেকে ছেড়ে আসা ঐ পণ্যবাহী ট্রাকটির সামনে হঠাৎ এক বৃদ্ধ চলে আসলে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে সজোরে আঘাত করলে ব্রিজের জয়েন্ট ছাড়িয়ে একটি অংশ হরিহর নদীতে পড়ে যায়। বিকট শব্দে স্থানীয়রা দৌড়ে যাওয়ার আগেই  কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়ায় সু-চতুর ট্রাক চালক দ্রুত গতিতে চলে যায়।

‎স্থানীয় যুবক টিপু জানান, এ ব্রিজটি যে কোন সময় ভেংগে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর দু’পাশই অরক্ষিত,একটু অসাবধান হলেই ঘঠবে দূর্ঘটনা। আমরা আশংকায় আছি যে প্রায় তিন যুগ আগের এ ব্রিজটি তার মেয়াদ অতিক্রম করাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট বড় সব ধরনের যানবাহনের চালকরা।

‎তথ্যবহুল কয়েকটি সড়ক দূর্ঘটনাও ঘটেছে এই জরাজীর্ণ হরিহর নদের উপর থাকা মণিরামপুর সেতুর উপরেই। মারা গেছে অনেকে এমনও তথ্য আছে। ছোট বড় দিয়ে গত ১ বছরে প্রায় ২৮-৩০ টি ঐ সেতু কেন্দ্রীক সংঘটিত দূর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য মোতাবেক, গেলো বছরে ব্রিজের পূর্ব পার্শের রেলিংয়ের উপর পণ্যবাহী ট্রাক উঠে গেলে ব্রিজটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যশোর বার্তার উপজেলা প্রতিনিধি এস এম তাজাম্মুল সহ ২/৩ জন সাংবাদিক ব্রিজটিকে নিয়ে যশোর সড়ক ও জনপদের (সওজ) দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ পরিবেশন করাতে সেটা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে আমলত নিয়ে সওজ কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান সড়ক ও জনপদের একটি টিম পাঠিয়ে ‘মণিরামপুর সেতু’টি সংস্কার, স্প্রীড ব্রেকার, গাইডপোস্ট ও সর্তকতার সিগন্যাল বোর্ড স্থাপন করে। তবে সরেজমিনের চিত্র বলছে, হরিহর নদের বিক্রয়কৃত মাটি উঠানোর যানবাহনের সুবিধার জন্য কয়েকটি গাইড পোস্ট তুলে ফেলা হয়েছে। মাটি বহনকৃত অবৈধযান(ট্রাক্টর) হতে মাটি পড়ে রাস্তার চরম ক্ষতি হচ্ছে,! যেমন কার্পেটিংয়ের বেশি ক্ষতিকরে মাট, পিচের জয়েন্ট ছেড়ে দেই,অবিরত গাড়ীর চাপ সহ নানা সমস্যায় পড়ে ব্রিজটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং পবিত্র ঈদ উল আযহার ছুটি শেষ হলেই একটা ব্যাবস্থা গ্রহনের আস্বাস দিয়ে চলতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সড়ক ও জনপদের (সওজ) যশোর জেলা সহকারী প্রকৌশলী তুষার কুমার।

‎বলাবাহুল্য, ‘মণিরামপুর সেতু’ নামক বাধাঘাটার এ ব্রিজটির নাম ফটক’টি তথ্য অনুসন্ধানী চলতি এ প্রতিবেদক বেশ সময় ধরে খোজাখুজির পর অস্পষ্টকারে খুজে পাই। যে নাম ফলকে পড়েছিলো কয়েকটি পোস্টার ও ময়লার আবরন আর কাদার প্রলেপ। টিক নাম ফলকের মতই অযত্ন অবহেলায় ‘মণিরামপুর সেতু’টি নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবর্তে মৃত্যু কূপে পরিনত হলেও সেটা দেখার মতো এখন কেউ নেই। উল্লেখ্য, প্রায় ৩ যুগ(৩১বছর) আগের  মণিরামপুর সেতুটি ১৯৯৫ সালের ১৮ই আগষ্ট উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম।