বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত মাদারীপুরের নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী নড়াইলে মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে শিরোনামের নিউজ হওয়ার পরও প্রকাশ্যে রয়েছে নড়াইলের দেবভোগ গ্রামের আশ্রয়দাতাসহ পাচারকারী চক্রের সদস্যরা।

উল্লেখ্য যে, মাদারীপুরের সমাপ্তী বাড়ৈ তার পরিবারের কাছে দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস যাবৎ নিখোঁজ আছে। এতথ্য নিশ্চিত করেছে তার অরিজিনাল বাবা কালু বাড়ৈ ও মাতা ববিতা বাড়ৈ। দীর্ঘ খোজাখুজির পর একপর্যায়ে কোন হদিস না পেয়ে সমাপ্তী বাড়ৈর পিতা কালু বাড়ৈ রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং পাচারকারী চক্রের হাতে সমাপ্তী বাড়ৈ জিম্মি আছে উল্লেখ করে একটি অভিযোগ করেছেন। এব্যাপারে জানতে চাইলে নিখোঁজ সমাপ্তীর বড় বোন জামাই বলেন, আমাদের নাবালিকা মেয়েকে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভারত থেকে আগত আবির নড়াইলের কিছু লোকের সহযোগিতায় অপহরণ করেছে এবং সমাপ্তীকে ভারতে পাচারের পায়তারা চালাচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ সাপোর্ট আশা করছি।

এদিকে নিখোঁজ ও পাচারকারী চক্রের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরও প্রকাশ্যে রয়েছে ভারত  আগত বাপ্পি রায় ওরফে আবির ও নিখোঁজ ১৪ বছরের স্কুল ছাত্রীকে দেবভোগ গ্রামে নিজ বাড়িতে আশ্রয়দাতা অশোক রায় ও তার ছেলে সুব্রত রায়। এই অশোক রায়কে দূরসম্পর্কের কাকা বানিয়ে সুব্রত রায় ও আবিরের বন্ধুত্বের বলি হয়েছে নিখোঁজ সমাপ্তি বাড়ৈ। ভারতের আবিরের অর্থের মোহে জড়িয়ে সুব্রত রায়ের সাথে মিলে নথিপত্র জাল সহ একাধিক নিয়মনীতি বহির্ভূত কাজ করতে এই মানব পাচারকারী চক্রের সাথে রয়েছে আরও একাধিক ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পাসপোর্ট করার জন্য মেয়ের নাম ঠিক রেখে বাবা-মায়ের নামের জায়গায় দেবভোগ গ্রামের প্রসেন রায় ও বিথীকা রাণী রায় দম্পতির এনআইডি ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন তৈরিতে সহযোগিতায় মিঠু রাণী ভদ্র নামের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সত্যতার জবানবন্দি দিয়েছে তারই আপন বোনের ছেলে নড়াইল শহরের ইউনাইটেড কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী অনলাইনে এক্সপার্ট নথিপত্র জালের মূলহোতা এবং পাসপোর্ট অফিসের দালাল কৌশিক দাস রায়। এরপরে বেরিয়ে আসে সমাপ্তী বাড়ৈকে রুপসী রায় করা সহ সকল নকল ডকুমেন্টস রাষ্ট্রীয় ভাবে অনুমোদন করিয়ে দেওয়া চক্রের তথ্য। এই চক্রের মুলহোতা বাওইসোনা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দোক্তা নাঈম হোসেন ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মান্নানের যোগসাজশে ডিজিটাল জন্ম-নিবন্ধন তৈরি করার মতো একটি গুরুতর অপরাধের চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার রাষ্ট্রীয় নিয়ম থাকলেও সেটাকে চক্রান্ত করে সম্পূর্ণ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বাওউসোনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ডিজিটাল এই জন্ম নিবন্ধন প্রাপ্তির মূলহোতা উদ্দোক্তা নাঈম হোসেনকে সহযোগিতায় রয়েছে বাওইসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মান্নান।

সর্বশেষ ভুক্তভোগী অসহায় মাদারীপুরের সমাপ্তি বাড়ৈর পিতা কালু বাড়ৈ নিজের মেয়েকে ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এবং তিনি সংশয় করছেন যে তার মেয়েকে ভারতে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে।