‎এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুরঃ গেলো বছরের ৫ই আগষ্ট নতুন এক বাংলাদেশ পেয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। সৈরাশাষক শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আ’লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের অধিকার বঞ্চিত নিষ্পেষিত সাধারণ মানুষ ফিরে পেয়েছে তাদের স্বাধীনতা।

উন্মুক্ত আকাশের ডানা ঝাপটানো পাখির মতো নিজের ইচ্ছা স্বাধীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকে স্ব স্ব কাজে হয়ে পড়েছে কর্মব্যাস্ত। প্রধান উপদেষ্টা ড.মোহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনা মোতাবেক আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

এ সমস্ত দলে অনুপ্রবেশ,ফান্ডিং সহায়তা,ঠিকাদারী কাজের সহায়তা,আত্মীয়করণ সহ নানান সব বাহানা নিয়ে সৈরাচারী শাষকের পক্ষে ২০২৪ সালের ৪ই আগস্টে যশোরের মণিরামপুরে রাজপথে নেমে হাসিনা হটাও আন্দোলনে থাকা সকলকে হুমকি দেওয়া ফ্যাসিস্টরা এখনো বহাল তবিয়তে মণিরামপুরে অবস্থান করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম।


‎এদিকে মণিরামপুরে সৈরাচার হটাও আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই ফ্যাসিস্টদের অবাদ বিচরণে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজনে কয়েকটি অনুষ্ঠানেও ফ্যাসিস্টদের এ অবাদ বিচরণকে নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।


‎সর্বশেষ চলতি মাসের ১৬ তারিখে জাতীয় জুলাই শহীদ দিবসে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলেও আগত জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা মোঃ রুহুল আমিন নিজেও ফ্যাসিস্টদের এ অবাদ বিচরণে প্রশাসনের নীরবতা আছে বলে জানান।

‎উল্লেখ্য,গেলো বছর সারা দেশের ন্যায় যশোরের মনিরামপুরে প্রথম ১৭ জুলাই রাজগঞ্জ বাজারে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ব্যনারে আন্দোলন শুরু হয় যা ১৯ জুলাই মনিরামপুর বাজারে বৃহৎ একটি মিছিলের মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জানান দেয়। গত বছরের ১৯ জুলাই আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ কতৃক ৫ থেকে ৬ জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। ২০শে জুলাই মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদের নির্দেশ মোতাবেক থানা তদন্ত অফিসার পলাশ দাস,এসআই প্রসেনজিৎ,এসআই মলয় সহ একটি টিম সাবেক আহব্বায়ক বর্তমান মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন ও তার পিএস হারুন-অর-রশিদকে গ্রেফতার করেছিলো মণিরামপুর থানা পুলিশ।পরে জনগনের রোষানলে পড়ে শহীদ ইকবাল ও তার পিএস হারুনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।এর পর থেকে মণিরামপুরে কয়েকদিন চলতে থাকে আন্দোলনকারী ও সৈরাচারের দোসরদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া,হামলা আর আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের উপর নানা রকম অত্যাচার ও নিপীড়ন।


‎পরবর্তীতে ৪ই আগস্ট সকালে মনিরামপুরের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ মিছিল বের করা হয় যার মূল নেতৃত্ব দেয় সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ ঘোষ, জি.এম মজিদ, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, গৌর কুমার ঘোষ, পৌর কাউন্সিলর আদম আলী,কাউন্সিলর বাবুল আক্তার, কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরী,কাউন্সিলর আজিম উদ্দীন,কাউন্সিলর সুমন দাস, কৃষক ‘লীগের আবুল হোসেন, মনিরুজ্জামান মিল্টন,যুবলীগের বজলু,রবিউল ইসলাম রবি,বাক্স বাবুল,মাদক ব্যবসায়ী গাংড়ার আসাদ সহ প্রায় অর্ধ শত আ’লীগ সামনের সারির নেতাকর্মী ও মিছিলের পেছন দিকে ছিলো নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা যাদের টার্গেট ছিলো আন্দলোনকারীদের ধরা এবং হামলা করা।কিন্তু তখন কাউকে না পেয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন সমন্বয়কারীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে।


‎বছর ঘুরে আবারো জুলাই শেষে আবারও সেই আগষ্ট আসতে চলেছে। কিন্তু গেলো বছরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়া এ সব নেতরা এখন কে, কোথায়, কি করছে ?


‎তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মনিরামপুরের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি যশোরে তার নিজ বাড়িতেই থাকছেন।


‎তথ্য আছে,যশোর জেলা এবং মনিরামপুরের স্থানীয় কিছু দলের নেতাদের হাত করে তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা থাকলেও প্রশাসন তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারিনি।গোপন তথ্য মোতাবেক,সাবেক এমপি ইয়াকুব আলীর ভাই ডাঃ মেহেদী হাসানের পক্ষ হতে মণিরামপুর বাসীর স্বল্প খরচে সেবায় নিয়োজিত “আমাদের এ্যাম্বুলেন্স” এর দেখভালের দায়িত্বে থাকাদের মাধ্যমে চলছে ফ্যাসিস্টদের গোপন সব লেনদেন।মণিরামপুরের গণমাধ্যমের বিশ্বস্থ্য একটিসূত্র বলছে,তার নেতিবাচক সংবাদ না করে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ এবং গুনগান গাইতে স্থানীয় মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সামনের সারির কয়েকজন সাংবাদিককে অর্থ দিয়ে এখনো পর্যন্ত মুখ বন্ধ করে রেখেছেন।


‎৫ আগস্ট পরবর্তী সময় কয়েকদিন বাজারে ঘুরতে দেখা গেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ও পৌর আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক তারই আপন বড় ভাই সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র কামরুজ্জামান কে। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারিতে পড়ার পর থেকে তাদের দুই ভায়ের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ ঘোষেরও কোন খোজ ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় কেও দিতে পারিনি।

‎জি.এম মজিদ, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, গৌর কুমার ঘোষ, পৌর কাউন্সিলর আদম আলী, বাক্স বাবুল, কৃষক লীগের আবুল হোসেন, মনিরুজ্জামান মিল্টন, কথিত সাংবাদিক আলাউদ্দিনরা গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও কিছুদিন পর তারাও জনসম্মুখে ঘুরা ঘুরি শুরু করে। জানা গেছে, সাবেক এমপি ইয়াকুব আলীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জি.এম মজিদ বর্তমানে পৌর শহরের মোহনপুর গ্রামের অবস্থিত তার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কথিত কিছু নেতাদের বড় অংকের অর্থ দিয়ে বর্তমানে সে উপজেলা পরিষদের সামনে গড়ে তুলছেন বিশিল আকারের বানিজ্যিক মার্কেট যা বর্তমানে তার বড় ছেলে রাজিব তদারকি করছেন।পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ বহাল ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বাক্স বাবুল তবিয়তে পৌর সভার সামনে অবস্থিত তার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়তই দোকানদারি করছেন।


‎সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দায়মুক্তি পর্বের লাইভে আসেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ৫ আগস্ট একমাত্র হামলার শিকার মনিরুজ্জামান মিল্টন, ২৮ মিটিনের লাইভে সে ৫ আগস্ট তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা কথিত হাসিনার কাছে বর্ননা করেন সে লাইভে তার স্ত্রী যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়া মিল্টন ও যুক্ত ছিলেন।
‎৪ আগষ্ট সকালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে শোডাউনের সামনে থাকা আরেক ফ্যাসিস্ট কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরী এখনো বীরদর্পে মণিরামপুর পৌরসভার কার্যালয়ে করছেন যাতায়ত।


‎কথিত সাংবাদিক আলাউদ্দিন ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ওই মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় সে এখনো বহাল তবিয়তে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সে মনিরামপুর মহিলা কলেজে কর্মরত থাকায় প্রতিদিনই সাইকেল চালিয়ে কলেজে যাওয়া আসা করেন বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
‎তবে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন কাউন্সিলর গৌর কুমার ঘোষ। আওয়ামী লীগের এ সব নেতরা এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ানোয় জনমতে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।


‎এ বেপারে ফ্যাসিস্টরা কেউ ছাড় পাবেনা,আত্বগোপনে থাকাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে।সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে এবং দ্রতই গ্রেফতার করা হবে বলে এমনই গতানুগতিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন সহকারি পুলিশ(মণিরামপুর সার্কেল) এএসপি ইমদাদুল হক।