
রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা, গুলি ও বোমা বর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নগরীর পরিবহন খাত।
আজ শুক্রবার সকালে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সাধারণ শ্রমিকদের ব্যানারে নগরীর শিরোইল এলাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম পাখির নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী গত মঙ্গলবার সাধারণ শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শ্রমিকেরা প্রশাসনের কাছে প্রধানত তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো:
পদত্যাগ: রফিকুল ইসলাম পাখিকে অনতিবিলম্বে শ্রমিক ইউনিয়নের সব পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
গ্রেপ্তার: হামলায় জড়িত বহিরাগত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
নিরাপত্তা: কর্মস্থলে সাধারণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ।
সকাল থেকেই কয়েকশ শ্রমিক ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তারা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘দখলবাজদের আস্তানা থাকবে না এই বাংলায়’—এমন প্রতিবাদী স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। মানববন্ধনের কারণে ওই এলাকায় কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল ধীরগতি হয়ে পড়ে।
শ্রমিক নেতারা তাদের বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ পুলিশ তাদের ধরছে না। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে পুরো উত্তরবঙ্গ জুড়ে পরিবহন ধর্মঘটসহ আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। শান্তিপূর্ণভাবে পরিবহন খাত পরিচালনার স্বার্থে তারা দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।