এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুরঃ রাত-দিন-সকাল-বিকাল, সময়-অসময়ে যানজটে পড়ে নাকাল মণিরামপুর পৌরসভা সহ সমস্ত উপজেলার মানুষ।যে কোন প্রয়োজনে মণিরামপুর বাজারে উঠলেই পড়তে হয় যানজটে।এর একমাত্র কারন যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং ও অবৈধ দখল দারদের দৌরাত্ব।

এবার মণিরামপুর বাসীর একমাত্র বিরক্তিকর বিষয় উপজেলা কেন্দ্রীক বাজারের চিরাচরিত যানজটের দুর্ভোগ হতে সাধারণ মানুষের মাঝে সস্তি ফেরাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না’র নেতৃত্বে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন।

শুধু অভিযান না,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত থেকে পরিবরহন ও বাস কাউন্টারদের রেড এলার্টও প্রদানও করেন।ঘুরে ঘুরে সমস্ত বাজারের অবৈধ দখলদারদের নিজস্ব এরিয়াতে বসে ব্যবসা করার তাগিদ দেন।নির্দেশনা না মানলে জেল জরিমানার বিষয়েও পরিষ্কার ঘোষনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।


৬ই এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে পরিচালনাকৃত এ ঝটিকা অভিযানে সরাসরিভাবে আরো অংশ নেন মণিরামপুর সহকারি কমিশনার ভূমি নিয়াজ মাখদূম,যশোর জেলা ট্রাফিক সার্জেন্ট মোঃ জহির, মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ গাজী, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ, পৌর বিএনপির সভাপতি খায়রুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সন্তোষ স্বর, জামায়ত নেতা মাওলানা মহিউল ইসলাম, মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান, মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক এস এম তাজাম্মুল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা, পৌরসভার তপু বিশ্বাস, বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মিঠু সহ স্থানীয় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা।


অভিযান শেষে যানজট নিরসন কমিটি ও সাংবাদিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না সাংবাদিকদের জানান, পুরোপুরি ভাবে যানজট নিরসন সম্ভব না। প্রধান সড়ক চিপা হওয়াতে যানজট দৈনিক লেগেই আছে।

ফুটপাত দখল আজ উচ্ছেদ করা হয়েছে।তবে রাস্তা প্রসস্থ করনের বেপারে আমাদের কিছুই করার নাই।বিগত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এ পাস হওয়া শিডিউলে মণিরামপুর বাজারের রাস্তা নির্মান হয়েছে আবারও একনেকের সভায় উত্থাপন পরবর্তী ব্যাবস্থার মাধ্যমে নতুন করে রাস্তা প্রসস্থকরনের ব্যাপারে আলোচনা করলে পজিটিভ কিছু আসবে।

আপাতত, যানজট এড়াতে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কয়েকজন পৌরসভার কর্মী,ট্রাফিক পুলিশ ও মণিরামপুর থানা পুলিশের সদস্য ২৪( চব্বিশ) ঘন্টা পার্ট-টাইম কাজ করবে।


আশ্বাসের বিশ্বাসে সাময়িক আশ্বস্ত হয়ে স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও সাধারন জনগন- যানজটের দুর্ভোগ লাঘবের একমাত্র পন্থা মণিরামপুর বাজারের প্রধান সড়ক প্রসস্থকরন ছাড়া অন্য কোন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন যাবত মণিরামপুর বাজারের রাস্তা প্রসস্থকরার বেপারে মন্ত্যবের ব্যাপক ঝড় উঠেছে।এমনকি যদি অতিদ্রুত যানজট সমাধানে রাস্তা প্রসস্থের পদক্ষেপ না আসে সেক্ষেত্রে “মানববন্ধন” সহ প্রধান উপদেষ্টা বরাবর “স্মারকলিপি” প্রদানের অভিমত ব্যাক্ত করেছেন অনেকে। তার সাথে সহমত প্রকাশ করেছেন একাধিক ফেইসবুক ভেরিফায়েড আইডি থেকে।


মণিরামপুর বাজারের কুলটিয়া রোডের কাপড় ব্যবসায়ী রিপন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ভাইপো দখলমুক্ত হলেও রাস্তার পাশ দিয়ে বড় বড় ভবন না ভাংগলে রাস্তার জ্যাম কমবে না।