নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড (বৈকন্ঠপুর) থেকে  পরপর দুইবার নির্বাচিত সাবেক মেম্বার শেখ আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রানু বেগম (৫০) কে পরিকল্পিত ভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার ১৫ ই আগস্ট বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা নলদি ইউনিয়নের বৈকণ্ঠপুর গ্রামের  সাবেক মেম্বার আনোয়ারের বাড়িতে মাদক  উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়।অভিযান শেষে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার দেখিয়ে সাবেক মেম্বারের স্ত্রী রানু বেগমকে আটক করে নিয়ে যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

 পরবর্তীতে ঐ দিনই ভ্রাম্যমান আদালতে রানু বেগম কে হাজির করলে বিজ্ঞ আদালত ৪ মাসের  জেল ও নগদ ১২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। 

এদিকে পঞ্চাশোর্ধ একজন  

সাবেক জনপ্রতিনিধির স্ত্রীকে

 মাদক দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় এলাকাবাসী সলেমান, বাচ্চু, ওমর, হাসিনা বেগম সহ অনেকেই মেম্বারের বাড়িতে  সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদক উদ্ধার  অভিযানের বিষয়ে  তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

তাঁরা বলেন,  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সারাঘর খুঁজেও কিছু পায়নি।

প্রায় ঘন্টাখানেক তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে তাঁরা যখন বাইরে এসে দাঁড়ায় তখন সিভিল পোশাকে বাড়ির পাশ থেকে একজন একটা ছোট কৌটা এনে বলে মাদক পাওয়া গেছে। তখন উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনাকারী অফিসারের নির্দেশে মেম্বারের স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায়। মেম্বারের স্ত্রীকে আমরা চিনি। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।  কোন ধরনের খারাপ কাজের সাথে তিনি জড়িত নন।সম্পুর্ণ উদ্দেশ্য মুলক ভাবে তাঁকে আটক করে মাদক দিয়ে অপরাধি সাজিয়ে জেল দেওয়া হয়েছে।

তিনি এই ধরনের কোন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্বাক্ষী করা হয়েছে স্থানীয় নজরুল মোল্যাকে।

তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমি দীর্ঘদিন মালোশিয়ায় ছিলাম।

ঘটনার দিন বিকেলে হাট থেকে ফেরার পথে রাস্তায় আইনশৃংখলা বাহিনীর পোশাক পরা একজন আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নিয়েছে। বিস্তারিত কিছু জানায় নি।

পরে জানতে পারি মেম্বারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক মামলায় আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। মাদক উদ্ধারের অভিযানের  সময় ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আর মেম্বারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বে কোন অভিযোগ আমি শুনিনি।

রানু বেগমের ছেলে রাজু( ৩২) জানান,তাঁরা আমাদের ঘরে ঘন্টাখানেক অভিযান চালিয়ে কিছু পায়নি। এই সময় আমাদের প্রতিবেশী অনেকেই  ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।পরে বাইরে থেকে মাদক এনে আমার মাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। আমি অনুনয় বিনয় করে আমার মায়ের পরিবর্তে আমাকে গ্রেফতার করতে বলে ছিলাম।তাঁরা আমাদের কোন কথাই শোনেনি।

এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার  আনোয়ারের সাথে কথা হলে তিনি স্ত্রীকে মাদক দিয়ে গ্রেফতার ও সাজা দেওয়ার ঘটনাকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ঘটনা বলে জানান।

  ঘটনার দিন তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

তার অনুপস্থিতিতে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। 

স্ত্রীকে গ্রেফতার ও সাজা দেওয়ার ঘটনা শুনে চিকিৎসা না নিয়ে তিনি নড়াইলে ফিরে আসেন।

এই ঘটনাশুনে তার 

প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে পাত্র পক্ষ বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

তিনি প্রশাসনের কাছে তাঁর নিরপরাধ স্ত্রীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নড়াইলের উপ পরিচালক গোলক মজুমদার অভিযান ও আটকের বিষয়ে বলেন, গোপন সুত্রে খবর পেয়ে আমরা আসামিকে মাদক সহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়েছি,এখানে কে কি প্রশ্ন তুললো সেটা যারা প্রশ্ন তুলেছে তাদের বিষয়।

নড়াইল জেলাকে মাদকমুক্ত করতে 

নিয়মিত মাদক উদ্ধার অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান।