নুর ইসলাম (নাহিদ), মণিরামপুর: যশোরের মণিরামপুর বাজারে আসন্ন ঈদুল ফিতরের কেনকাটায় বেশ জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। সব শ্রেণির মানুষ ছুটছেন তাদের পছন্দের পোশাক ও অনান্য সামগ্রী কেনার জন্য। এজন্য গার্মেন্টস পট্টিতে থাকছে ক্রেতাদের ভিড়। গরম উপেক্ষা করেও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত মণিরামপুরের মানুষ। পবিত্র রমজান মাসের শেষ সময়ে এসে পছন্দের পোশাকটি বেছে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে সবাই।
তবে পোশাকের দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবার। মানুষ আস্থা রাখছেন দেশীয় পণ্যে। পূর্বে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন বন্ধ রয়েছে ভারতীয় পণ্যের আমদানি। তাই দেশীয় কোম্পানিগুলো উৎপাদনও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর ক্রেতারাও ঝুঁকছেন দেশীয় পণ্যে। তাছাড়া বিক্রেতারা বলছেন ভারতীয় ও পাকিস্তানি পণ্যের আদলে এখন দেশীয় অনেক কোম্পানি তৈরি করছে পোশাক। যা বিদেশি পণ্য বলেই চালিয়ে দেয়া হচ্ছে অনেক দোকানে।
এদিকে, কিছু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে ঈদের কেনা-কাটা নিয়ে ভিড় থাকলেও এবছর উৎসাহ উদ্দীপনা কম। তার বড় কারণ দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতারা এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে রাতে বের হতে এখন নিরাপদ মনে করেছেন না। কেনাকাটা করতে হলে দিনের আলোতে করে নিচ্ছেন। বিক্রেতাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জন্যও হারিয়েছেন ক্রেতা। পূর্বে ইফতারের পর, অর্থাৎ সন্ধ্যায় কিংবা রাতের দিকে বিপণীবিতানগুলোতে ক্রেতারা ভিড় করলেও এবছর সন্ধ্যার পর ক্রেতা সমাগম কমে যাচ্ছে।
বিক্রি নেই জুয়েলারির: মণিরামপুরের জুয়েলারি দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, সার্বক্ষণিক বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের। আগে ঈদকে ঘিরে রমজানের প্রথম ১০ দিনেই ব্যাপক কেনা-বেচা চলতো। যা এখন নেই। শ্যামলী জুয়েলার্সের মালিক পলাশ কুমার দে বলেন, এখন জুয়েলারি বানানোর লোক নেই, এটা বিশ্বাস করা যায়? পুরো মণিরামপুরের জুয়েলারি দোকানগুলো দেখেন, কোথাও লোক নেই। খুবই খারাপ অবস্থা। এইযে দোকান শূন্য, এভাবেই থাকে সারাক্ষণ। এবার ঈদের আগ পর্যন্তও বাড়বে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত আমরা। সুন্দরী জুয়েলার্সের সুমন চক্রবর্তী বলেন, এখন যেভাবে দোকান সুনসান দেখতে পাচ্ছেন ঠিক বন্ধ করার আগ পর্যন্ত একই দশা। কোনো ক্রেতা নেই।
ভীড় বেশি বড়সড় গার্মেন্টস দোকানে: মণিরামপুরের কুলটিয়া রোড কাপুড়িয়া পট্টিতে সরজমিনে দেখা গেছে, বড়সড় কয়েকটি গার্মেন্টসের দোকানে অন্যসব দোকানের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় বেশি। কিছু দোকান মালিকরা বলছেন, ভিড় থাকলেও বিক্রি ও কাস্টমার দুই-ই কমেছে। রাতের অংশে আর আগের মতো আসছেন না ক্রেতারা। বর্তমান বাজারের একজন বড় ব্যবসায়ী একতা গার্মেন্টসের মালিক বাবলু দাস বলেন, যদি আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করি, তাতে এবছর বিক্রি কমেনি। বরং বেড়েছে। এখন ক্রেতারা দিনের বেলায়ই বেশি আসেন।
সন্ধ্যার পর আগের বছরগুলোতে বেশি আসতো, কিন্তু দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা দিনের বেলায়ই বেশি আসছেন। আরেক ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন বলেন, আমাদের এখানে সত্যি বলতে প্রতি বছরের মতো এখন নেই। তবে ছোট দোকানগুলোতে যেমনটি আছে এখানে এরচেয়ে কিছুটা বেশি আছে। দিনেই বেশি বিক্রি হয়। ইফতারের পরের সময়টায় কিছু ক্রেতা বাড়লেও বেশি রাত পর্যন্ত থাকছেন না। আমাদের এখানে সব নিত্যনতুন কালেকশন এনেও ক্রেতাদের মন জোগানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ইমিটেশনের কানের দুল, চুড়ি ও পারফিউমের দোকানেও ভিড় আছে। ঈদমার্কেটে সাধারণত সকালে আর বিকাল থেকে ভিড় হচ্ছে। দুপুরে রাস্তাঘাট দোকান পাটে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম।
মণিরামপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের স্বত্বাধিকারী মোঃ নুর ইসলাম নাহিদের সাথে মণিরামপুর কাপুড়িয়া পট্টিতে সাক্ষাতে তিনি জানান, কেনাকাটা তো করতেই হবে। তাই আগে-ভাগেই করাই ভালো। সাধ আছে সাধ্য নেই, ঈদের ক্ষেত্রে তা যেন প্রযোজ্য নয়। যেভাবেই হোক পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন জামা কাপড় ও জিনিসপত্র কেনার ব্যাপারে কার্পন্য করা ঠিক হবে না। তাই ছুটে এসেছি।
এদিকে মণিরামপুরের টেইলার্সগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অনেকে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রচুর কাজের চাপে হিমসিম খাচ্ছেন প্রায় সবগুলো টেইলার্সগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রিও তত বাড়ছে।
ঈদে এবারে মণিরামপুর বাজারের লোকসমাগম ও আমেজ সম্পর্কে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি সুমন চক্রবর্তী বলেন, ইতিমধ্যে রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম তাজাম্মুল সহ একটি চৌকস টিম বাজার মনিটরিং করেছেন। সবমিলিয়ে পরিলক্ষিত হয়েছে অন্য বছরের তুলনায় এবছর একটু কেনাবেচা কম। তবে রমজান শেষ মূহুর্তে গার্মেন্টস, জুয়েলারি, কসমেটিকস, কাঁচাবাজারে ব্যাপক ভিড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। যেটা প্রতিবছরই হয়, রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নুর মোহাম্মদ গাজী জানান, সাধারণ মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরতে পারেন সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সকাল থেকেই মার্কেট, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে নজরদারি থাকছে। এর বাইরেও রয়েছে পুলিশের মোবাইল টিম। আশা করছি এবারও ক্রেতারা ভালোভাবেই তাদের ঈদের কেনাকাটা করতে পারবেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে মণিরামপুর থানা পুলিশ সর্বদা মণিরামপুরবাসীর পাশে আছে ও থাকবে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।