যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বিনা রিসিটে ভর্তি বাতিলের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি বাতিল করতে আসা একজন শিক্ষার্থী। ভর্তি বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নির্দেশনা না থাকার পরেও ৩ হাজার টাকা গুণতে হয়েছে ওই শিক্ষার্থীকে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আঁখি রানী। তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা পেশায় একজন সাধারণ কৃষক।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে আঁখি বলেন, ‘আমি গত শনিবার (১৫ জানুয়ারি) যবিপ্রবিতে ভর্তি বাতিল করতে গিয়েছিলাম। ভর্তি বাতিলের বিষয়ে আমি আমার পরিচিত কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা আমাকে জানিয়েছিল যবিপ্রবিতে ভর্তি বাতিল করতে কোনো টাকা লাগে না। কিন্তু আমি যখন আমার বিভাগে ভর্তি বাতিল করার জন্য যাই, তখন একজন অফিস সহকারী আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর আমি চেয়ারম্যান স্যারের সাথে কথা বললে তিনিও একই কথা বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপরে চেয়ারম্যান স্যারকে আমার অপারগতার কাথা জানিয়ে অনুরোধ করলাম যে, স্যার ভর্তি বাতিল করতে তো টাকা লাগে না, আর আমার কাছে এত টাকা নেই। তিনি আমাকে বললেন, ভর্তি বাতিল করতে জরিমানা দিতে হবে আর আজ টাকা না দিতে পারলে কাল আবার টাকা নিয়ে এসে ভর্তি বাতিল করে যেও। পরবর্তীতে আমি বাতিলের জন্য দুইটি আবেদন পত্র লিখি চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রার বরাবর, এরপর বিভাগের অফিস সহকারীর কাছে জমা দিতে গেলে তিনি আমাকে ৩ হাজার টাকা দিতে বলেন। টাকা দেওয়ার সময় আমার পারিবারিক অবস্থা জানালে পরবর্তীতে একজন শিক্ষক ফোনে আমাকে ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে আমার অনুরোধে ১০০০ টাকা দেয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণপত্র বা রিসিট দেননি।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়মানুসারে ভর্তি বাতিলের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি আমাদের কাছে এই ধরনের অভিযোগ আসে, তাহলে আমরা আইন অনুসারে ব‌্যবস্থা নেবো।’

ভর্তি বাতিলে টাকা নেওয়ার বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আলমগীর বাদশার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী যদি বাতিল করে, তাহলে আমাদের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দিতে হয়। আমাদের বিভাগের ক্ষেত্রে সেটা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো টাকা না, এই টাকা বিভাগের ফান্ডে জমা হয়।’

সাথী