কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ৫ কৃষককে অপহরণ করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ দুজন হলেন- হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালীর মৃত উলা মিয়ার ছেলে নজির আহমদ (৫০) ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (২৭)।
জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ও মরিচ্যাঘোনার পাহাড়ি এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে তারা অপহরণের শিকার হন। অপহৃত আরও দুজন এখনও নিখোঁজ। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। বাকি দুজনকেও দ্রুত উদ্ধার করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণের শিকার হন মো. শাহজাহান (৩৫), আবু বক্কর (৪০) ও তার ছেলে মেহেদী হাসান (১২)। তাদের ধান ক্ষেত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় একটি শসা ক্ষেত থেকে তুলে নেওয়া হয় নজির আহমদ ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসেনকে।
পরে অপহরণকারীরা প্রত্যেকের পরিবারে ফোন দেয়। পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় ফোনে। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় সন্ত্রাসীরা কৃষক শাহজাহানকে গুলি করে ও আবু বক্কর-মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে ওই কৃষকদের স্বজনেরা দল বেঁধে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে আহত তিনজনকে ফেলে রেখে যায়। তবে নজির আহমদ ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসেনকে অস্ত্রের মুখে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত তারা নিখোঁজ আছেন। তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি। এর আগেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হ্নীলা ও হোয়াইক্যং পাহাড়ি এলাকা থেকে একাধিকবার কৃষকদের অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।