ভাই প্রবাসে থাকতেই জমি দখলের ছক, মণিরামপুরে মা ও তিন মেয়ে অবরুদ্ধ!
ভাই প্রবাসে থাকতেই জমি দখলের ছক, মণিরামপুরে মা ও তিন মেয়ে অবরুদ্ধ!
স্টাফ রিপোর্টার, মণিরামপুর: যশোরের মণিরামপুরে প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠে আপন ভাই আব্দুল কুদ্দুসের, নূর জামালের বিরুদ্ধে । মণিরামপুর উপজেলার খেদাপড়া ইউনিয়নের খড়িঞ্চী গ্রামের মৃত মিনাজ ফকির ছেলে প্রবাসী আব্দুল মান্নান এর পৈত্তিক সম্পত্তির ৩৯ শতাংশের মধ্যে বন্টনমুলে ৯.৭৫ শতাংশ প্রাপ্য হয়, বসতি করার জন্য আব্দুল কুদ্দুস এর থেকে ক্রয় করেন আরও ৯.৭৫ শতাংশ, মোট জমি প্রাপ্য ১৯.৫০ শতাংশ। আব্দুল মান্নান বসতভিটা স্ত্রীর নামে দলিল করে দিলে অন্যান্য শরিকদের জন্য ব্যপারটি কাল হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তিন কন্যা সন্তান আর স্ত্রী ভিটা বাড়ি কি করবে, মেয়েদের বিয়ে দিলে শশুর বাড়ি পাবে, ভাইপোরা ঐ বাড়িটি দেখাশুনা করতে পারবে এমনই অভিযোগ।
উল্লেখ থাকে যে, মুল জমির দুই পাশে ভোগ দখল করতে পারবে মান্নানের পরিবার মাঝে থাকবে শরিকদের ফসলী জমি, অযৌক্তিক দাবি করায় পারিবারিক ভাবে বসাবসি করেও যখন সুরাহা না হয় তখন বন্টন মামলা দায়ের করেন প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা খাতুন, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় শরিকদের নানা রকম ফন্দি ফিকির তৈরি করেন, পথ অবরুদ্ধ, চারিত্রিক সমস্যা, ফসলী জমিতে চাষাবাদে বাধা গ্রস্ত করতে থাকেন, শাহাজান ফকির (৪৮) পিতা মৃত – ইমান ফকির, সোহান (২২) পিতা – শাহাজান ফকির, আব্দুল কুদ্দুস (৩৮) নূর জামাল (৩১) পিতা মৃত- মিনাজ ফকির, জাহিদ হাসান মিলন, মোজাম্মেল হোসেন পিতা – হযরত ফকির।
এমতাবস্থায় আব্দুল মান্নান তার স্ত্রী নাজমা খাতুনকে পরামর্শ দেন স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করার জন্য, সেখানেও বসাবসি হলে ক্ষমতার দাপট দেখায়, অমান্য করতে থাকে গ্রাম্য সালিশ, খেদাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুনসুর সাহেব নামজা খাতুনকে পরামর্শ দেন, সন্তানদের নিয়ে টিকে থাকা মুশকিল হবে এভাবে চলতে থাকলে, আপনি লিখিত অভিযোগ দেন মণিরামপুর ইউএনও, এসিল্যান্ড মহোদয়ের বরাবর, আমি আপনাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবো। সে কথা অনুযায়ী অভিযোগ জমা দেন।
বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসলে, সরজমিনে অনুসন্ধানে গেলে খেদাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো মুনসুর বলেন, আমি বলেছি, তোমাদের ভাবি, কন্যাদের না খেয়ে মারার ব্যবস্থা কেন করছো? একজনের ভুল হলে তার ফাঁসি হয়, তবে তাকে না খাইয়ে মারে না, তা তোমরা না খাইয়ে মারার চেষ্টা করতেছো কেন? এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, তোমারা ছেড়ে দাও সহানুভূতি হও সহানুভূতি দেখাও কিন্তু তারা কোন প্রকার আমার কথা শোনেনি, তারা জমিতে পানি দিবে না, চাষাবাদ করার সুযোগ দিবে না। তাদের পূর্বের সমস্যা মিটমাট না হলে কোন সমাধানের সুযোগ নেই বলে সাব জানিয়ে দিয়েছেন।
বিষয়টি, শাহনাজের কাছে জিজ্ঞাসা করলে অনেক তথ্য পিছনের ঘটনাবলি বলতে থাকেন, আর বলেন, আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তাহলে বিবেচনা করতে পারি তাছাড়া বরো-মৌসুমে তার জমিতে আমি পানি দিবো না, তবে তার জমিতে সে চাষাবাদ করতে পারেন, আমার স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিবো না, তার কত ক্ষমতা আছে দেখি সে আর কি কি করতে পারে?
আব্দুল কুদ্দুসকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে, তিনি বিষয়টি হস্যকর বলে আখ্যায়িত করেন, বলেন আমার ভাবি একজন মামলাবাজ মহিলা, তার কাজে আমরা কোন বাধা সৃষ্টি করিনি, সেতার জমিতে চাষাবাদ করবে, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই তবে আমি স্যালো মেশিন দ্বারা তার এক বিঘা মত জমিতে পানি দিবো না, আমাকে জেল খাটালেও না, এর আগেও আমি তার জন্য বাসায় ঘুমাতে পারিনি, সেটা লম্বা কাহিনি, আমি রাজনৈতি করি পদধারী এর শেষ কোথায় দেখে ছাড়বো। একটু দূরে যেতেই, ভাই দেশে ফিরলে তাকে কি ভাবে শায়েস্তা করা যায় তা নিয়ে আলাপচারিতায় ক্ষিপ্ত হতে থাকেন।
পথ অবরুদ্ধ বিষয়ে জানতে গেলে, বাড়িতে না থাকায় মুঠে ফোনে কথা হয় তোজাম্মেল হোসের সাথে, তিনি জানান আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দিয়ে রাস্তা করা, তাছাড়া ঐ মহিলা আমার বাবাকে হেনস্তা করছে, রাস্তা ব্যক্তিগত হলেও ইট বিছানো সরকারি, তাকে রাস্তা অবমুক্ত করার বিষয়টি জানালে বলেন- আমার পরিবারের আরও সদস্য আছে তাদেরকে নিয়ে পরামর্শ করে বিষয়টি কোন দিকে যাবে সেটি জানাবো।
বিষয়টি নিয়ে আবারও বসাবসি /আপোষ করার মত যৌক্তিক পরামর্শ দিলে, তারা পরে জানাবেন বলে জানান, তাৎক্ষণিক এলাকার মেম্বার লিটন হোসেনকে অবহিত করলে, তিনি জানান এলাকায় নেই এখন বসতে পারবো না।
এবিষয়ে নাজমা খতুনকে জিজ্ঞাসা করলে বলেন- আমার স্বামী একজন প্রবাসী, আমি তিনটে বাচ্চা নিয়ে থাকি, ওরা আমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে অনেক অত্যাচার হয়রানি করে। আমার স্বামী বাড়ি থাকতে যে জায়গা জমি গুলো রেখে গিয়েছিলেন, ভাগ বটোরা তিন ভাই মিলে, সেভাবে নেই, অনেকবার মাপজোপ করে, তারা যেটাই বলে আমি সেটাই মেনে নেই, যেহেতু আমার স্বামী বাড়ি নেই, আমি কিছু বলতে গেলেও আমার ঘাড়ের পর আসে, তারা ভাগ করে যে জমি গুলা দিয়েছে সে গুলাই করতেছি, এখন এসে সবাই মিলে নতুন চক্রান্ত করছে, আমার সে জমিগুলাতে আর ফসল ফলাতে দিবে না, আমার যেখানে ৫ শতক জমি সেখানে কি একটি স্যালো মেশিন বোরিং করা সম্ভাব? যারা জমি চাষ করেন তাদেরকে আমার জমি চাষ না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন উপায়ে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে।
আমি নিজে তাদের বলেছি ও আমার মেয়েদের দিয়ে বলিয়েছি, আপনারা আমাদের এভাবে শাস্তি দিবেন না, আপনারা তো বসাবসি হলে কারও কথা রাখেন না, তাদের কে আসতে বলেন, আপনারা বসেন আমার ভুল হলে আমি ক্ষমা চেয়ে নিবো তবুও আমাদের সহযোগিতা করুন। তবুও তারা কারও কথা শুনতেছে না।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো সম্রাট হোসেন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যস্তার কারণে তিনি মনিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রজিউল্লাহ খানের কাছে পাঠান ও মুঠো ফোনে ওসিকে সার্বিক বিষয় বিচেনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলেছি।
মনিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রজিউল্লাহ খান এবিষয়ে দায়িত্ব দেন এস আই উবাইদুল্লাহ কে, তিনি জানান আমি স্পটে গিয়েছিলাম, উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি এবং ক্ষেতে পানি দেওয়ার বিষয়টি আমি অনুরোধ সহকারে বলে আসছি, দেখা যাক তারা কি করে!
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, অনুরোধেই কি থামবে এমন চাপ ও অবরোধ? প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে একটি পরিবারকে সেচ, রাস্তা ও চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত করা কি শুধু পারিবারিক বিরোধ, নাকি এটি স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন?
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তারা প্রবাসীর পরিবারকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।