নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম। রোববার সকালে বয়ে যাওয়া এই আকস্মিক ঝড়ে শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা জুড়ে এখন শুধু ধ্বংসের চিহ্ন, বাতাসে ভাসছে মানুষের কান্না আর হাহাকার।

🔹 ধ্বংসস্তূপে পরিণত ১১ গ্রাম

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের পর গ্রামজুড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ভাঙা ঘরের টিন, উপড়ে পড়া গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। প্রায় এক হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে।


সোমবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন কেউ নিজের ঘর মেরামতে, কেউ বা ভাঙা টিন আর ভাঙা কাঠ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে সহায়-সম্বল হারিয়ে বিধ্বস্ত ঘরের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

🔹 মুহূর্তেই সব শেষ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই ঝড়টি আসে। মাত্র ৩০–৩৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই ঘূর্ণিঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি উড়ে যায়, আর মুহূর্তেই অন্ধকারে ঢেকে যায় গোটা এলাকা।
এর আগে কয়েকদিন ধরে নীলফামারীতে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছিল। তারই মধ্যে এই আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।

🔹 প্রশাসনের তৎপরতা

ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেন।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন,

“ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তার জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিন ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”

🔹 শোক ও ক্ষতির ভারে নীলফামারী

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, অনেক পরিবার পুরোপুরি ঘরহীন হয়ে পড়েছে। স্কুলের ছাদ ও গাছ উপড়ে পড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ে মারা যাওয়ার খবর না পাওয়া গেলেও আহতের সংখ্যা বেড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছে।