কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ চাকরি সরকারীকরণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির অংশ হিসেবে আজকে অবস্হান কর্মসুচী পালন করেছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই (আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন) টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির রাজশাহী জেলা শাখা, নাটোর শাখা, নওগাঁ শাখা ও চাঁপাইনবাবগজ্ঞ শাখা। এ সময় আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন ও কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বুধবার বেলা ১২ টায় থেকে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে টেকনিশিয়ানরা ব্যানার, ফেস্টুন হাতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত টেকনিশিয়ানদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানান, মাঠপর্যায়ে গবাদিপশুর প্রজনন ও জাত উন্নয়নে তারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তারা বলেন, “আমরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খামারিদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিই। কিন্তু আজ আমাদের নিজেদের পরিবারই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।” আমাদের এই কর্মবিরতি কোনো শখের আন্দোলন নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই। যতক্ষণ না প্রশাসন থেকে আমাদের বেতন-ভাতা এবং চাকরি স্থায়ীকরণের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কোনো কৃত্রিম প্রজনন সেবা দেওয়া হবে না।”

তারা বলেন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রেখেও ৩০ বছর ধরে বিনা বেতনে কাজ করছেন তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, আগে তাদের দুই হাজার টাকা সম্মানীত দেওয়া হলেও তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ গত অর্থ বছরে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন থেকে সরকারি রাজস্ব খাতে প্রায় ১২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন তারা।

এ সময় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি রাজশাহী জেলা সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, নওগাঁ জেলা সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ, নাটোর জেলা সভাপতি এস, এম কায়কোবাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন।