দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেছেন সাবিনা খাতুন। তার জীবনে এটাই সবচেয়ে সেরা দিন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কাঠমুন্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় নতুন ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। জোড়া গোল আসে কৃষ্ণা রানি সরকারের পা থেকে। অন্য গোলটি করেন বদলি নামা শামসুন্নাহার জুনিয়র। স্বাগতিকদের পক্ষে ব্যবধান কমান অনিতা বাসনেত।

খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, দীর্ঘ ১২-১৩ বছরের অপেক্ষা শেষ হয়েছে। দেশবাসী দোয়া করছিল এবং গত রাতে (রোববার) আমি দেখেছি যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে আমাকে ট্যাগ করেছিল এবং বলছিল ট্রফিটা ঘরে নিয়ে আসার জন্য। এই ট্রফি সারা দেশের, সারা দেশের মানুষের। ভালো লাগছে যে ট্রফিটা নিয়ে যেতে পারছি।

ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ২৮ বছর বয়সী সাবিনা বলেছেন, আমরা ফেয়ার প্লে ট্রফি জিতেছি। আমি সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ও আসরের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছি। শিরোপা জেতার পাশাপাশি এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনের সেরা দিন।

ফাইনালে আলো ছড়ানো ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এভাবে, প্রথমত, খুব ভালো লাগছে যে আমরা সেরা হতে পেরেছি। সব কিছু মিলিয়ে খুব ভালো লাগছে। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। সেটা আপনারাও দেখেছেন, সবাই দেখেছে।

এদিকে টুর্নামেন্টের সব পুরস্কারই পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতার পাশাপাশি বাংলাদেশ জিতেছে ফেয়ার প্লে ট্রফিও। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ৮ গোল করে তিনি জিতে নিয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও।

টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন বাংলাদেশের রূপনা চাকমা। ফাইনালে নেপাল ব্যবধান কমানো যে গোলটি করেছে, সেটাই বাংলাদেশের জালে প্রথম গোল। ৫ ম্যাচে বাংলাদেশ একটিমাত্র গোলই হজম করেছে। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েরা গোল করেছেন ২৩টি।