
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ৭৮০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করলেও এখন পর্যন্ত তা জমা দেওয়ার হার বেশ কম। নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সংগ্রহকৃত ২ হাজার ৭৮০টি ফরমের বিপরীতে মাত্র ৩১ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে দাখিল করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫০৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে জমা দিয়েছেন মাত্র ২ জন। এর পরেই কুমিলল্লা অঞ্চলে ৪০৫ জন এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৩৯ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন। অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনায় ৩০২ জন, রংপুরে ২৮৩ জন, রাজশাহীতে ২৬৯ জন, চট্টগ্রামে ২৪০ জন, বরিশালে ১৬১ জন এবং ফরিদপুর অঞ্চলে ১৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। সবচেয়ে কম ১২৭ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন সিলেট অঞ্চলে। দাখিলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে যথাক্রমে ৮ ও ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে রাজশাহী ও কুমিলল্লা অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই তাঁদের ফরম জমা দেননি।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য হাতে আর মাত্র এক দিন সময় বাকি আছে। আগামীকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে সকল প্রার্থীকে তাঁদের সংগৃহীত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অফিসগুলোতে ব্যাপক ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করা যাবে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেসব আপিল নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। সব শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বর্তমানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সকল দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।