নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) যশোর শাখার উদ্যোগে ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে যশোর জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় জানানো হয়, যশোর জেলায় বর্তমানে ৩০৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের নারকোটিক্স লাইসেন্স বৈধ, বাকি ২৬৬টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনবিহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্লিনিক ভাড়া বাড়িতে চালানো হলেও ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চলছে।
সরকারি নজরদারি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যে বিপাকে পড়েছেন যশোরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। অনুমোদন, অবকাঠামো ও সেবার মান নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে একের পর এক ক্লিনিক মালিক এখন পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
“সরকারি সিস্টেমে কোনঠাসা” অভিযোগ তুলছে প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের মালিকগণ
বেসরকারি ক্লিনিক মালিকদের অভিযোগ— সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রশাসনিক ধারা ও বিধিনিষেধের ধরন পাল্টে যায়। নতুন কর্মকর্তা এলে তৈরি হয় নতুন নিয়মকানুন, ফলে লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়ায় এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
একাধিক ক্লিনিক মালিক জানিয়েছেন,
“এক বছরে ৮ থেকে ১২টি লাইসেন্স অনুমোদন বা নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অফিসে কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সদিচ্ছা না থাকায় সেটি মাসের পর মাস ঝুলে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া ফাইল এগোয় না।”
তাদের দাবি, প্রশাসনের কড়াকড়ি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য হলেও বাস্তবে এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্লিনিক মালিকরা কার্যত কোনঠাসা অবস্থায় পড়েছেন।
সরকারি হসপিটালে রোগি মারা গেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রাইভেট হসপিটাল – ক্লিনিকে মৃত্যু হলে নিয়মের বেড়াজালে বন্দী হতে হয়। আমরা যেন প্রতিষ্ঠান করে বড় অন্যায় করেছি!
আরো প্রশ্ন তোলেন,- সরকারি হসপিটালে সেবার মান কতটুকু গ্রহনযোগ্য তবুও সেখানে নেই কোন নজরদারি, ক্লিনার থেকে শুরু করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যবহার খুবই বাজে, যেখানে প্রতিটি সেক্টর দূর্নীতি অনিয়ম প্রতিফলিত।
প্রশাসনের অবস্থান
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অননুমোদিত ও অব্যবস্থাপনায় থাকা ক্লিনিকগুলো বন্ধের পদক্ষেপ জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
“অবৈধভাবে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে নিয়ম মেনে পরিচালিতদের পাশে প্রশাসন সবসময় থাকবে,”
সমাধান চান উদ্যোক্তারা
ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, তারা অনিয়ম চান না, কিন্তু সর্বনিম্ন ২ বছর লাইসেন্সর মেয়াদ হওয়া ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল হলে হয়রানি কমবে এবং সেবার মানও বাড়বে।
“আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে চাই, তবে একই সঙ্গে আমাদেরও কাজের পরিবেশ দরকার,”
বলেছেন এক ক্লিনিক মালিক।বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বাররা বলছেন- যদি কোন হসপিটাল, ডায়াগনস্টিক এর মালিকপক্ষ সরকারি নিয়মকানুন না মেনে চলেন ও সংগঠনের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হন আমরা সুপারিশ করব সেইসব প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করার জন্য, আমরা সরকারের সহযোগী হতে চাই।
জনস্বাস্থ্য বনাম প্রশাসনিক জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি তদারকি স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য হলেও অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। এতে প্রান্তিক মানুষের সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।