নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার পাগলাদহ গ্রামে আবাসিক এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠা একটি মুরগির খামারকে কেন্দ্র করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খামার থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকার চেয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাগলাদহ গ্রামের শামসুদ্দিন সরদারের ছেলে সেলিম রেজা ওরফে সেলিম সরদার প্রায় আট বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে তিনটি শেডে হাঁসের খামার স্থাপন করেন। তবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং প্রতিবেশীদের আপত্তির কারণে কিছুদিন পর সেটি বন্ধ করে দেন। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর একই স্থানে তিনি মুরগির খামার চালু করেন। বর্তমানে ওই খামারের দুর্গন্ধে আশপাশের অসংখ্য পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খামার থেকে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। বিশেষ করে গরম ও বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, বমি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও দাবি তাদের।

এ বিষয়ে পাগলাদহ গ্রামের আক্তারুল ইসলাম লাবু জানান, সেলিম সরদারের মুরগির খামারের কারনে আমরা চরম সমস্যার মধ্যে আছি। না পারছি ঘরে থাকতে না পারছি বাইরে থাকতে। পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছি। তীব্র গন্ধে ঘরে থাকা, ঘুমানো খাবার-দাবার খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বারংবার বলা সত্ত্বেও সেলিম সরদার কোন কথায় কর্ণপাত করছেন না। প্রশাসনসহ সর্বস্তরের কাছে আমাদের একান্ত দাবি অতিদ্রুত আবাসিক এলাকা থেকে এই খামার অপসারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

একই গ্রামের শেফালী বেগম নামে এক নারী জানান, সেলিম সরদারের খামার থেকে আসা গন্ধের কারনে আমরা বাড়িতে থাকতে পারি না। আমার মেয়ে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অনেকবার তাকে জানিয়েছি, তিনি কোন কথায় গায়ে মাখেন না। আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অবিলম্বে এই খামার বন্ধ করা প্রয়োজন।

সেলিম সরদারের অপর এক প্রতিবেশি শিউলী খাতুন জানান, মুরগির খামারের তীব্র গন্ধে আমরা ঘরে টিকতে পারছি না। আমার বাড়ির সদস্যরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা এর স্থায়ী প্রতিকার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সেলিম সরদারকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। প্রতিবাদ করলে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকিরও শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সেলিম রেজা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিদেশ থেকে এসে হাঁসের খামার শুরু করি। হাঁস চাষে লস হওয়ায় মুরগির খামার শুরু করেছি। মুরগির খামারের পাশাপাশি গরুর খামারও করেছি। আমার খামারের কারনে কারও সমস্যা হচ্ছে এমনটি কখনো শোনা যায়নি বা কেউই অভিযোগ করেনি। আমি নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করে আসছি এবং যথা সম্ভব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি।

আবাসিক এলাকায় মুরগির খামার স্থাপন করা যায় কি-না এমন প্রশ্নে তিনি উপস্থিত উত্তর খুজে না পেয়ে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি আমার জমিতে খামার করেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এ ধরনের খামার পরিচালনার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জনস্বার্থে আবাসিক এলাকা থেকে খামারটি অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।