• ড্রেন এখন মশার কারখানা
• যানজটে নিরসনে ধোয়াশা
• বাজার মনিটরিংয়ে মন্থর গতি
এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ কার কথা কে শোনে, যার মতো সে চলে! সরকারী গেজেট মোতাবেক জনসেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন কর্মকর্তা -কর্মচারীরা প্রতিমাসে বেতন বা পারিশ্রমিক বাবদ পাচ্ছেন সম্মানী। অথচ, যে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিমাসে এ সমস্ত অফিসারদের জন্য গেজেটাকারে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে তার বিপরীতে সেবা নই বরং সাধারন মানুষের সাথে প্রহসনের মাধ্যমে ভোগান্তিতে ফেলছে কর্তৃপক্ষ!
আজকের এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যশোরের মণিরামপুর পৌরসভা কর্তৃক সেবার নামে মানুষের সাথে প্রহসনের নাটকের বাস্তবচিত্র। পবিত্র রমজান মাসেও বিগতদিনের অবহেলার নেই কোন সুবাতাস। একের পর এক প্রকল্প হলেও নাগরিক সুবিধায় সেই ভোগান্তি, তবে পরিবর্তন হয়েছে পৌর বেষ্টনীর আর উন্নয়ন হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থার।
সরেজমিনের চিত্র বলছে, মণিরামপুর পৌরসভার সাবেক নির্বাহী ও উপজেলা কর্মকর্তা নিশাত তামান্না’র সময়ে কয়েকটি প্রকল্পের মধ্য পৌরভবনের সৌন্দর্য বর্ধন, ৯শ মিঃ ড্রেন নির্মান, মশক নিধোন বরাদ্দ, যানজট নিয়ন্ত্রণে লোকবল নিয়োগ সহ একাধিক ব্যাপারে অর্থ বরাদ্দের ৬ মাস পরও হয়নি কোন উন্নয়ন। আবার কয়েকটি নতুন ড্রেন ও রাস্তা নির্মান হলেও সে গুলো তদারকির অভাবে সবই অকার্যকর। রাস্তা নির্মানে কয়েকটি ওয়ার্ড পর্যায়ে মিলেছে অনিয়ম। নতুন-পুরাতন সব ড্রেনেই পানি জমাতে কোটি কোটি মশার ডিম্বানুতে এখন অভয়-আশ্রমে পরিনত হয়েছে। ২টি অর্থবছরে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ড্রেনের পরিমান বাড়লেও সেটা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পৌরবাসী র ভোগান্তি এখন চরমে। বিশেষ করে হাকোবা,মণিরামপুর,মোহনপুর,তাহেরপুর,কামালপুর,দূর্গাপুর ওয়ার্ডের নির্মানকৃত প্রায় অর্ধশত ড্রেনের প্রবেশদ্বার ও হরিহর নদীর সম্মুখদ্বারের আগে ময়লা আবর্জনার ভরাটে পানি জমে বদ্ধ জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। মাসের পর মাস ড্রেনে পানি জমে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে,হচ্ছে পরিবেশ দূষন,ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির বিষয় – মশার উপদ্রব্য বৃদ্ধি পাওয়াতে পৌরবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী। বাজারঘাট,বাসাবাড়ি,অফিসপাড়া সহ প্রতিটি পরিবেশে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সেবা গ্রহীতার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মোতাবেক, মশার বংশ বিস্তারের জন্য দীর্ঘদিনের আবদ্ধ জলাশয় যেমন,পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল,ফেলে রাখা টব,ফেলে রাখা টায়ার এমনকি ডোবা,নালায় এক একটি মশা প্রজননের মাধ্যমে একটি স্ত্রী মশা লক্ষ লক্ষ ডিম(লালা) ছেড়ে বংশ বিস্তার করে। মশার উপদ্রব ও আবাস্থলের উপর ভিত্তি করে জলাশয়ের আশপাশেই এডিস মশার ভ্রূণ বহনকারী মশা কাউকে কামড় দেই সেক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এ দিক দিয়ে বেশিরভাগই শিশুরা আছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
ভোগান্তীর আরেকটি কারন যানজট। মণিরামপুর বাজারে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখলে প্রায়ই দেখা যায় যানজট। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়ে ছোটবড় যানবাহনের মধ্য রোগীবহনকারী এ্যাম্বুলেন্সকে হঠাৎ করে থমকে যেতে হয়। চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হয়ে মণিরামপুর বাজারেই ৪৫ মিনিটের যানজটে পড়ে রোগীর অবস্থা সংকটময় মুহূর্তে পতিত হয় বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছে একাধিক এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার। একনেকে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হয়ে রাস্তা সংস্কার হলেও চওড়া হয়নি। সরকার পরিবর্তন হয়েছে,জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হয়েছে,কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু সেই ভোগান্তিতেই পড়ে আছে মণিরামপুর বাসী। প্রশ্ন থেকে যায় কার স্বার্থে এই পরিকল্পনা!
এদিকে পবিত্র রমজানের শুরু হতেই কাঁচাবাজার,নিত্য প্রয়োজনীয় স্বামগ্রী সহ প্রতিটি পন্যের ব্যবসায়ী মহল পন্যের দাম বাড়িয়ে সহনশীল পর্যায় হতে ক্রেতাদের পন্য ক্রয়ে নাগালের বাইরে চলে গেছে। আড়তদার হতে খুচরা ব্যাবসায়ীরা সাধারণ মানুষের গলার উপরে ছুরি বসাতে তৈরি করে নিয়েছে অবৈধ সিন্ডিকেট। এ সমস্ত সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা বাজারের প্রভাবশালী হওয়াতে কেউ কোন শব্দ করেনা। এখানেই প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন! রমজানের আগে হতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ভিত্তিক বাজার গুলোতে নিয়মিত মনিটরিং টিম তদারকি করলেও মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন ধরনের মনিটরিংয়ে কাউকে দেখা যায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মধ্যবিত্ত সমাজের একাধিক ভুক্তভোগী।
মণিরামপুর পৌরসভার তত্বাবধানে সম্প্রতি সিসি ক্যামেরা স্থাপন,যানজট নিয়ন্ত্রণে লোকবল নিয়োগ দিলেও সিসির কন্টোলরুমে ফুটেজ চাইলেও পাওয়া যায়না কোন রেকর্ড আর যানজট নিয়ন্ত্রণের সেই লোকবলের ছায়া মেলেনা পৌরশহরের কোথাও। এলজিইডি ও জাইকার সহযোগিতায় শত শত ডাস্টবিন পৌর বাসীকে দেওয়া হলেও অসংখ্য ডাস্টবিনে আগাছা উঠতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ডাস্টবিনের ময়লা নিয়মিত না নেওয়াতে ময়লাখানায় পরিনত হয়েছে। এখানেও সেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি! এত বড় একটি পৌরসভায় নাই কোন গণ শৌচাগার। পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও মণিরামপুর পৌরসভার সাপ্লাই ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ! পানিতে আয়রন হয়ে কমলা রংয়ের দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে রোগজীবানুর আতংকের সাথে মাঝে মাঝে পানির লাইনই বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে নিয়মিত রশিদ সহকারে পানির বিল আদায় করে কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার এ সমস্ত সার্বিক বিষয়ে বারবার মিটিং করে কমিটি নির্বাচন হলেও খাতা কলমেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ! বাস্তবে নেওয়া হয়না কোন পদক্ষেপ। মণিরামপুর পৌরসভার এহেন ভোগান্তির কার্যকলাপে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পৌরবাসী। এ সমস্ত সমস্যার সমাধান অতি দ্রুত সময়ে না হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি পরিবেশ দূষনের নগরীতে মণিরামপুর পরিনত হবে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত উদ্যগের আশাবাদ ব্যাক্ত করে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান,আমরা গতকাল(বুধবার) ঘরোয়াভাবে মশক নিধোন অভিযান উদ্বোধন করেছি। পর্যায়ক্রমে সমস্ত এলাকায় স্প্রে করা হবে।
তবে ইতিপূর্বেও সংবাদ প্রকাশের পরপরই কয়েকদিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দৌড়ঝাঁপ করলেও সময়ের সাথে কার্যক্রম মন্থরতায় রূপ নিতে দেখা গেছে বহুবার। স্থায়ী সমাধানকল্পে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা উল্লেখ করে সেবার মান উন্নয়নে পৌর কর্তৃপক্ষে কার্যকরী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে মণিরামপুর পৌরবাসী।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।