
আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দলিল লেখক ও মুহুরীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকার কথা থাকলেও, সাধারণ সম্পাদক পদে এক বিতর্কিত নেতার প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন আসাদুল ইসলাম শামীম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাগমারা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং একজন মুহুরী। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও হঠাৎ করেই এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী ভূমিকা পালনকারী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পদধারী একজন নেতা কীভাবে এবং কার ছত্রছায়ায় এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন—তা নিয়ে সাধারণ দলিল লেখক ও সচেতন মহলে এখন প্রশ্ন।
এছাড়াও সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সমিতির নির্বাচনের নাম ভাঙিয়ে মুহুরিদের নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন জানান,বাগমারা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম শামীম গত ৫ তারিখের আগে সাবেক এমপি ইঞ্জি: এনামুল এবং সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের খুব ঘনিষ্ঠ ক্যাডার ছিলেন ৫ তারিখের পরে আওয়ামী সরকারের পতনের পরে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পরে বর্তমানে তিনি এখন এমপি ডা:বারীর ছত্রছায়ায় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
গোপন সূত্রে আরো জানা যায, সমিতির ফান্ডে জমাকৃত প্রায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অসৎ উদ্দেশ্যেই আসাদুল ইসলাম শামীম এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন আব্দুল আজিজ জানান,সে আওয়ামী লীগ ছিল ৫ তারিখের পরে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো এখন সবার সম্মতিক্রমে দলমত নির্বিশেষে সব দলের প্রার্থীদের অংশগ্রহনে এই নির্বাচন করা হচ্ছে এখানে আমি কি করতে পারি।
এছাড়া নির্বাচনের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানান, এখানে এমপি ডা: বারী নিজে এসে খরচ নির্ধারণ করে গেছেন এখানে বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।
এবিষয়ে রাজশাহী-৪ আসনের এমপি ডা: বারী জানান, আমি চাই ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতিতে যেনো সুষ্ঠ নির্বাচন হয় সমিতি যেনো সুষ্ঠভাবে চলে জনগন কোন হয়রানি না হয় তাদের ওপর কোন জুলুম যেনো না হয়। এদেশে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোন সুযোগ নাই যদি এই নির্বাচনে এমনটি হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।
দীর্ঘদিনের সুশৃঙ্খল একটি পেশাজীবী সংগঠনে এমন বিতর্কিত ও পলাতক নেতার অংশগ্রহণ এবং তহবিল আত্মসাতের আশঙ্কার বিষয়ে সাধারণ ভোটার ও স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।