
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম খান। গত ১১ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এক বছরের জন্য এ পদে পদায়ন করা হয় এবং গত বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তবে এই নিয়োগ ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক ও প্রশ্ন। মাত্র ১৭ মাস আগে বিএমডিএর তৎকালীন ইডি মো. শফিকুল ইসলামকে সরিয়ে অবৈধভাবে চেয়ার দখলের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং দুদিনের মাথায় ‘জনস্বার্থে’ জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ১৭ মাস পার হলেও সেই তদন্তের ফলাফল কিংবা সুপারিশ কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
‘জনস্বার্থে’ বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে জাহাঙ্গীর আলম নিজেই উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁকে একই সংস্থার শীর্ষ পদে ফেরানো হলো।
যাকে ‘জনস্বার্থে’ অপসারণ করা হয়েছিল, কোন বিশেষ মূল্যায়নে ১৭ মাসের ব্যবধানে আবার একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো—তার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যার অনুপস্থিতি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অতীতের এসব বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নবনিযুক্ত ইডি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অনর্থক অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি না করাই ভালো।”
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী সাবেক ইডি মো. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।