এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ দেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ ও জীবনযাত্রায় এসেছে সময়ের পরিক্রমায় যুগ উপযোগী পরিবর্তন। বদলেছে মানুষের জীবনমান,পরিবর্তন হয়েছে সামাজিক অবকাঠামো, বদলে গেছে গোটা সমাজব্যবস্থা। তবে সমাজের প্রান্তিক কিছু মানুষের জীবনে সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া এখনো পর্যন্ত লাগেনি প্রান্তিক শ্রেনীর একটি অংশে। সমাজে অধিকার বন্চিত, অবহেলিত তেমনই এক অসহায় পরিবারের নাম নিখিল বৈরাগী ‘ভোলা’। মানষিক প্রতিবন্ধী ভোলা স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি জীর্ণ-শীর্ন ও অস্থায়ী ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। নিজের নামে নেই কোনো জায়গা-জমি, নেই স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস। উল্লেখিত বিভীষিকাময় জীবন-যাপনের গল্পে বলছি, মনিরামপুর উপজেলার ৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নিখিল বৈরাগী মানসিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করছেন। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন চায়ের দোকানে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে দেন তিনি। বিনিময়ে সারাদিনে পান মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার। বয়স এবং শারীরিক-মানসিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত কাজ করাও তার জন্য কঠিন।

‎নিখিল বৈরাগীর একমাত্র ছেলে মহাদেব বৈরাগী বিবাহিত। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে তিনিও চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের কোনো জায়গা-জমি না থাকায় অন্যের মাছের ঘেরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। সেখানে পাওয়া আয় দিয়ে নিজের স্ত্রী-সন্তানের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অসহায় বাবা-মায়ের পাশে নিয়মিত দাঁড়াতে পারছেন না মহাদেব।

‎এভাবেই একই পরিবারের দুই প্রজন্ম দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন। একদিকে মানসিক প্রতিবন্ধী বাবা নিখিল বৈরাগী, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও সম্পদহীন ছেলে মহাদেব—দুজনের জীবনই যেন অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে আছে।

‎তবে দূর্ভাগ্যের বেপার হলো একই ওয়ার্ডে দুই ইউপি সদস্য,তবুও ভোলার খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই!

‎পরিবারটির সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য সজল মল্লিক জানান, বর্তমানে নিখিল বৈরাগী ওরফে ভোলা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পান না।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই ওয়ার্ডে একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য দায়িত্বে থাকার পরও বছরের পর বছর ধরে এমন অসহায় একটি পরিবারের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ কি নেই? স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের আওতায় থাকা এমন একটি পরিবার যদি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরেই থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

‎তথ্য মোতাবেক,দীর্ঘদিন ধরে এ পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটালেও তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন কিংবা সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ প্রতিবন্ধী ভাতা, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ অসহায় মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে।

‎নিখিল বৈরাগীর পরিবারের করুণ পরিস্থিতি এখন মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করে পরিবারটির প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি খাদ্য সহায়তা, নিরাপদ বাসস্থান, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত সরকারি সহায়তা কিংবা সামান্য একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ—নিখিল বৈরাগী ও তার পরিবারের কাছে এগুলো বিলাসিতা নয়; বরং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের সাথে কথা হলে ঐ পরিবারের খোজ নিবেন বলে জানান।