মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ দুই পায়ের নিচেই কালচে দাগ,হাটুর নিচে ক্ষত চিহ্ন,মুখ ও মাথায় অসংখ্য আঘাতের ছাপ, আবু দাউদের চোখের চাহনিতে হতাশার ছায়া দেখে যে কেউ বলবে সে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। নিজের বাবা ও সৎ মায়ের দীর্ঘদিন যাবত নির্যাতনের স্বীকার আবু দাউদ (১২) নামের এক কিশোরকে উদ্ধারের পর ঐ বালকের আপন চাচা কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের জৈনক ইসমাইল হোসেনের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে মানবিকতার পরিচয় দিলেন দৈনিক যশোর বার্তা পত্রিকার মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম তাজাম্মুল।

‎নির্যাতনের স্বীকার হওয়া বারো বছরের আবু দাউদ পার্শবর্তী কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে এই মর্মে সত্যতা নিশ্চিত করে প্রশাসনিক নিরাপত্তায় আবু দাউদকে নিজের ভাইপো বলে বৃহশ্পতিবার(৩ই সেপ্টঃ) বিকালে নিজ হেফাজতে নিয়ে গেছেন ঈদ্রিসের ভাই ইসমাইল হোসেন। ঐ কিশোরের চাচা ইসমাইল নিজেও তার ভাই ইদ্রিসের স্ত্রী ঐ বালকের মা রুপা খাতুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের জানান, ভাইয়ের স্ত্রী নাভারনের ইসহাক আলীর মেয়ে রুপা খাতুন তার স্বামীকেও মারধর করতো। কেশবপুর মধ্যকুল থাকা কালীন স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে মারধর করার প্রতিবাদ করার কারনে রুপা ষড়যন্ত্র করে কেশবপুরের পৈত্রিক ভিটার বিক্রি করে নাভারনে রুপার বাবার বাড়িতে চলে যায়। ৫ বছর যাবত পরিবারের সাথে তাদের কোন যোগাযোগ নাই। 

‎তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টঃ) বেলা ১২টার দিকে মণিরামপুর মোহনপুর আদ্বদীন মোড়ে এক বালককে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুলকে জানাই। তাৎক্ষণিক ঐ সাংবাদিক গুরুত্ব দিয়ে ছেলেটিকে সুস্থ্য করে প্রাথমিক জানতে চাইলে ঐ বালক বলে, দীর্ঘদিন যাবত তার বাবা-মা তাকে ঘরে আটকে মারধর করে। তার বাবা ইদ্রিস আলী ধরে রাখতো ও মা রুপা তার উপর অমানবিক নির্যাতন করতো। এমনকি তার পা বেঁধে মাথা নিচের দিকে দিয়ে দড়িতে ঝুলিয়ে অমানবিক নির্যাতন করতো। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে কোন রকম সুযোগ পেয়ে নাভারন হতে পালিয়ে হাটতে হাটতে ঘঠনাস্থল মণিরামপুর মোহনপুরে এসে পৌছালে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। 

‎স্থানীয় যুবকে মাসুদ পারভেজের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার,পরিষ্কার -পরিছন্নতা,খাওয়া-দাওয়া শেষে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে ঐ বালকের কথা রেকর্ড নেই সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুল। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের নির্দেশনা মোতাবেক তার পরিবারের খোজ খবর নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর মধ্যকুল হতে  ঐ নির্যাতনের স্বীকার বালকের চাচা ইসমাইল হোসেন মণিরামপুর থেকে তার ভাইপো আবু দাউদকে নিজের হেফাজতে বাড়িতে নিয়ে গেছে বলে ঘঠনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুল জানান, এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের বিপদে যদি মানুষ এগিয়ে না আসে তাহলে আমরা মানুষ পরিচয় কিভাবে দিবো। তিনি আরো জানান, আমরা খোজ খবর নিচ্ছি, যদি ঐ বালকের কথা সত্য হয় তাহলে অভিযুক্ত ঐ পিতা-মাতাকে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

‎এদিকে এ ঘঠনার বিষয়টি জানাজানি হওয়াতে সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুলের এ মানবিক কাজের প্রশংসা করেছেন অনেকে।