যশোরের মণিরামপুরে প্রায় ৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে!


চিনেটোলা থেকে কোনাখোলা পর্যন্ত এ রাস্তার নির্মাণে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার, পুরনো খোয়া পুনর্ব্যবহার, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী বলছেন “কাজ শেষের আগেই যদি রাস্তা ভাঙে, বর্ষায় কীভাবে টিকবে?”

অনিয়মের খবর প্রকাশের পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি, গত ১লা সেপ্টেম্বর দৈনিক যশোর বার্তাসহ একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় “নিম্নমানের কাজ ও দায়সারা মনোভাব” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর এন্টারপ্রাইজ চিনেটোলা থেকে কোনাখোলা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে পুরনো ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করেছে। এমনকি পূর্বের কার্পেটিংয়ের ময়লাযুক্ত খোয়া পুনরায় কাজে লাগানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব অনিয়মের বিষয়টি মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ফয়সাল আহম্মেদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, “অর্থের বিনিময়ে দেখেও না দেখার ভান” করেছেন তারা।

অবাক করা বিষয়— এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি, তবুও রাস্তায় বড় ধস নেমেছে। শ্যামনগর মোড়ের পাশে প্রায় এক মিটার গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আনতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সেই গর্তে একটি গাছ রোপণ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, “রাস্তার নিচের বালির স্তর দুর্বল, খোয়া পুরনো ও নরম। কিছু জায়গায় আগের খোয়া নতুন রাস্তায় ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এইভাবে রাস্তা দীর্ঘদিন টিকবে না।”

স্থানীয়রা আরও জানান— চলমান অনিয়ম বন্ধ না হলে তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবেন।
“জনগণের টাকায় রাস্তা হচ্ছে, কিন্তু সুবিধা পাওয়ার বদলে আমরা ভোগান্তি পাচ্ছি। যারা এ কাজ করছে, তারা আসলে উন্নয়ন নয়—দুর্নীতির পথেই হাঁটছে,” বলেন এক ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহম্মেদ বলেন,

“কাজ বর্তমানে বন্ধ আছে। কোথাও ভাঙন দেখা দিলে ঠিকাদার তা সংস্কার করে দেবে।”

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর এন্টারপ্রাইজ–এর পরিচালক ও ম্যানেজারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

৬ কোটি টাকার একটি রাস্তা কাজ শেষের আগেই যদি ভেঙে যায়, তবে সেটির আয়ুষ্কাল কতদিন?
এলাকাবাসী বলছেন,

“এভাবে নিম্নমানের কাঁচামালে কাজ চললে উন্নয়নের নামে কেবল দুর্নীতিই বাড়বে। প্রশাসনের উচিত এখনই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।”