
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার তফসিল ঘোষনার পর হতে দেশব্যাপী জেলা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্ব-স্ব নির্বাহী কর্মকর্তা (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড) ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অনান্য উপজেলার ন্যায় যশোরের মণিরামপুরে গণ-মাইকিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন দাবী ও মনোনীত প্রার্থীর সমস্ত ধরনের নির্বাচনী প্রতীকের প্রচারনার ব্যানার,ফেস্টুন,পোস্টার মুছে ফেলার জন্য ১৩ই ডিসেম্বর সন্ধা ৬টা পর্যন্ত ঘোষিত সময় শেষ হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কঠের অবস্থানে থেকে ইসি কর্তৃক ঘোষিত বিধিনিষেধ না মানলে প্রার্থীকে নগদ অর্থদন্ড সহ কয়েকটি বড় বড় দণ্ডাদেশ আইন প্রনয়ন আছে! যার ধারা প্রতিটি প্রার্থীর ক্ষেত্রেই একই।
মণিরামপুর উপজেলা ব্যাপী নির্বাচনী কাজে ব্যবহারিক যে স্যাম্বল সমূহ এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান আছে তাতে করে হয়তো একাধিক প্রার্থীর জেল-জরিমানা, অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডের আশংকা করছেন সচেতন মহল। তারা আবার এটাও বলছেন, যদি ইসির জারিকৃত আইন স্থানীয় প্রশাসন সঠিক ব্যাবহার করে অপরাধ শনাক্তে কঠোরনব্যাবস্থা গ্রহন করেন তাহলে শুধু যশোর-(মণিরামপুর) নই,দেশবাসী হয়তো প্রায় ২ যুগ পর আবারও একটি সুষ্ঠ গ্রহনযোগ্য মূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চলেছে।
চলতি এ প্রতিবেদন বলছে,ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির ধানের শীষের টিকিট পেতে প্রতীকের প্রাচারনায় ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন,সেচ্চাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নী,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু,প্রয়াত নেতা মোঃ মুছার ছেলে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোঃ শাহিন হোসেন ও শরীক দলের প্রয়াত নেতা মুফতি ওয়াক্কাস মাওলানার ছেলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এদিকে বাংলাদেশ জামায়তে ইসলাম মনোনীত সর্বপ্রথম একক প্রার্থী হিসাবে দাড়িপাল্লার ব্যানার,ফেস্টুন,পোস্টারের প্রচারণায় স্যাম্বলিংয়ের হার ছিল উল্লেখযোগ্য । দলীয় হাতপাখা প্রতীকের প্রচারনায় ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মাষ্টার জয়নাল আবেদীন টিপু,এনপিপির এ বি আহাদ শাপলা কলি প্রতীকের প্রচারনায় পোস্টারিং করেছিলেন।
হাট-বাজার,পাড়া-মহল্লা,দোকানপাট,বসতবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনায় কয়েকটি প্রতীকের পোস্টারিং করতে দেখা গেলেও সকল দলের মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ হলে জনপ্রিয়তা ও গণ-জরীপের সাথে সংসদীয় আসন যশোর ৫ মণিরামপুর উপজেলার নির্বাচনী এরিয়ায় প্রচারনায় এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লার এড গাজী এনামুল হক ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এম.ইকবাল হোসেন শীর্ষে অবস্থানে থাকা অবস্থায় ই,সি গত শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করেছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালন -২ অধিশাখার উপ সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা মোতাবেক, ১২ই ডিসেম্বর হতে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে স্ব স্ব প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারনার সমস্ত স্যাম্বল অপসারনের ১ম দিনে তেমন তোড়জোড় না হলেও ১৩ই ডিসেঃ শনিবার সকাল হতেই মণিরামপুর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম ইকবাল হোসেন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী এনামুল হকের অনুসারীরা উপজেলা প্রশাসনের তফসিল ঘোষনার মাইকিংয়ে ইসির ঘোষনা মোতাবেক সমস্ত নির্বাচনী স্যাম্বল অপসারন করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। উপজলা বিএনপির সভাপতি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এম.ইকবাল হোসেন ঢাকাতে অবস্থান করায় ইসির নির্দেশনা মেনে সমস্ত নির্বাচনী প্রচারনার স্যাম্বল অপসারণ করতে উপজেলার সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীর প্রতি আহবান জানিয়ে সোস্যাস মিডিয়ায় বিবৃতি প্রান করেন। এ বেপারে নির্দেশনা মেনে সমস্ত প্রচারনার স্যাম্বল অপসারনের কাজ চলমান ছিলো বলে জানান মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ।
তবে ভিন্নতা দেখা গেছে, নির্বাচনী স্যাম্বল অপসারনে মণিরামপুর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের পোষ্টার ও বিলবোর্ড গুলো অপারনে মনোনীত প্রার্থী এড গাজী এনামুল হক পৌরশহরের অডিটরিয়াম রোডে নিজেই নেতাকর্মীদের সাথে পোস্টার অপসারন করতে নেমে গেছে। এ ছাড়াও বিধিমালা মেনে পোস্টার অপসারনের কথা জানিয়েছেন,ইফতেখার সেলিম অগ্নি,আসাদুজ্জামান মিন্টু,জয়নাল আবেদীন টিপু সহ অনান্য সকল প্রাথীরা। তবে নির্বাচনী আচরণ বিধির আইন প্রনয়নে মাঠে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেডের পাশাপাশি মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন শক্ত অবস্থানে থেকে এ আসনে একটি সুষ্ঠ গ্রহনযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন মণিরামপুর উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন।
উল্লেখ্য,চলতি মাসের ২৯তারিখে মনোনয়নপত্র জমা, ৩০ ডিঃ হতে ৪ঠা জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই, ২২শে জানুয়ারি হতে ১০ই ফেব্রুঃ পর্যন্ত প্রচার প্রচারনা শেষে ১২ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।